শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
বরগুনায় নারী নির্যাতন মামলার তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাদীর আবেদন কাউখালীতে নাগরিক উদ্যোগের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কাপ্তাইয়ে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে সচিব-দাউদ মিয়া,এনডিসি কাপ্তাইয়ে ১০০ খামারির মাঝে গো-খাদ্য বিতরণ কাপ্তাইয়ের উথোয়াইমং মারমা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাউখালীতে নৌ পুলিশের ওপর হামলায় আটক-১ বাজারে ঘোরাফেরা করায় ৬ শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর স্বাধীনতার ৫৫বছরেরও বিদ্যুৎতের আলো দেখেনি কাপ্তাইয়ের দূর্গম এলাকার তিনটি ওয়ার্ডের ৫৬০পরিবার কাউখালীতে ভাত খাওয়া নিয়ে কলহে ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু কাপ্তাই ১১আর ই ব্যাটালিয়ন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ 

বরগুনায় নারী নির্যাতন মামলার তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাদীর আবেদন

  • আপডেট এর সময় শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে
Oplus_131072

বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনার পাথরঘাটায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে গড়িমসি, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মামলার বাদী মোসাঃ তানজিলা আক্তার।

এ বিষয়ে গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন তানজিলা আক্তার। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, বরগুনার পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে (১) মোঃ আল আমিন (৩০), পিতা—মোঃ ফারুক হোসেন; (২) মোঃ ফারুক হোসেন (৫৮), পিতা—মৃত আহম্মেদ খন্দকার; এবং (৩) মোসাঃ হাজেরা বেগম (৪৮), স্বামী—মোঃ ফারুক হোসেন-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই বরগুনার বামনা উপজেলার দক্ষিণ রামনা, ৩ নম্বর রামনা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে তানজিলা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ৮ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বিবাদীরা তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে ওই দিন তিনি বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং ১০ মে বামনা থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এরপর ১৩ মে নিজের জীবনের নিরাপত্তা, কাবিননামা উদ্ধার, যৌতুক নির্যাতনের প্রতিকার, ন্যায়বিচার এবং অভিযুক্ত ১ নম্বর ব্যক্তির বিদেশ গমন স্থগিতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন বলে জানান তিনি।

তানজিলার অভিযোগ, এর পরদিন ১৬ মে ১ নম্বর বিবাদী ছাড়া অন্যান্য বিবাদীরা তাদের বাড়িতে এসে যৌতুকের বিষয় নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাকে পুনরায় মারধর করেন। এ ঘটনায় ওই দিনও তিনি বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ১৭ মে ২০২৬ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, বরগুনায় পিটিশন মামলা নং-১৪২/২০২৬ দায়ের করেন তানজিলা আক্তার। আদালতের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাথরঘাটা থানার এসআই মোঃ হুমায়ুন আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করছেন। তদন্তের বিষয়ে তাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আবেদনে তানজিলা আরও অভিযোগ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন—‘কোন কোন বিবাদীকে ধরব?’ তদন্তকারী কর্মকর্তার এমন আচরণে তিনি উদ্বিগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন।

বাদীর দাবি, তদন্তে এ ধরনের বিলম্ব ও তদন্তকারী কর্মকর্তার আচরণের কারণে মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত নাও হতে পারে এবং তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশ বা প্রভাবের কারণে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন কি না, সে বিষয়টিও নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাথরঘাটা থানার এসআই মোঃ হুমায়ুন বলেন, মামলার এজাহারে ১ নম্বর আসামি মোঃ আল আমিন বিদেশে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত ওই আসামিকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হবে, সে বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসামিরা সত্যিই বাদীকে মারধর করেছেন কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে বাদীর দাবি, মামলার তদন্তে অযথা বিলম্ব করা হচ্ছে এবং তিনি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ তদন্ত চান।

উল্লেখ্য, বাদীর করা পিটিশন মামলার নথিতে ১ নম্বর আসামি মোঃ আল আমিনের বিদেশে অবস্থান এবং দেশে ফিরে আসার বিষয়ে তথ্য রয়েছে। ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যে উল্লিখিত ‘বিদেশে অবস্থান’ সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি মামলার মূল নথিতে থাকা সংশ্লিষ্ট তথ্যও যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ অবস্থায় বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনবোধে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন এবং কোনো ঊর্ধ্বতন বা নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির তদন্তের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বাদী। একই সঙ্গে এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি, চাপ বা হয়রানির শিকার হতে না দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

আবেদনের সঙ্গে ৮ মে ও ১৬ মে তারিখের চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র, ১০ মে দায়ের করা অভিযোগের অনুলিপি, ১৩ মে বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া আবেদনের অনুলিপি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, বরগুনায় দায়ের করা পিটিশন মামলা নং-১৪২/২০২৬-এর কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ