সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রী:
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) সরকার প্রস্তাবিত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করছে। বিএমএসএফ মনে করে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ সময়োপযোগী নয় এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় নির্বাচনকালীন সময় গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল ও দায়িত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নতুন কোনো নিয়ন্ত্রক কমিশন বা অধ্যাদেশ জারি হলে সাংবাদিকদের মধ্যে আত্মভীতি ও আত্মসংযম (self-censorship) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা অবাধ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো: আবুল হোসেন সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন গণমাধ্যম সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া, যা কখনোই তড়িঘড়ি করে বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা উচিত নয়। বরং এ বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা, গণশুনানি এবং সকল সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক পরিষদ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আবশ্যক।
প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে মতামত নিতে সেটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। মতামত দিতে মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।
বিশেষ করে মফস্বল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী পেশাগত সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক বৈষম্যের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে নিয়ন্ত্রণমূলক কোনো কাঠামো আরোপ করা হলে তা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর করবে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম মনে করে ১. জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ স্থগিত রাখা উচিত। ২. গণমাধ্যম সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। ৩. কমিশন গঠনের আগে সকল অংশীজনের সঙ্গে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ সংলাপ অপরিহার্য।
বিএমএসএফ স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয় শক্তিশালী করাই রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কোনো সিদ্ধান্ত যেন গণতন্ত্র, নির্বাচন ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ।