মোঃ মেহেদী হাসান,কাউখালী।
পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে নৌ পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
১৯শে আগস্ট(বুধবার) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার ২ নং আমরাজুড়ি ইউনিয়নের কুমিয়ান এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ পন্টুন সংলগ্ন গোপাল স্টোরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময় এক পুলিশ কনস্টেবলকে ছুরিকাঘাত ও ইট দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পরিদর্শকসহ আরও পাঁচ পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,সন্ধ্যা নদীতে নিয়মিত টহল শেষে নৌ পুলিশের একটি দল ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় ফুট পেট্রোল করছিল। এ সময় একই এলাকার মোঃ কালাম ব্যাপারীর পুত্র মোঃ শান্ত(২২), পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে গালিগালাজ করতে থাকেন। পুলিশ সদস্যরা তার এ অশোভন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তৎক্ষনাত সে পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ আরমান হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তকে শান্ত করার চেষ্টা করলে এ সময় শান্ত ও তার সহযোগীরা বাঁশের লাঠি,ইট ও ধারালো চাকু নিয়ে নৌ পুলিশের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। হামলাকারীরা কনস্টেবল মোঃ জাকির হোসেনকে চাকু ও ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে
কনস্টেবল জাকিরকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ আরমান হোসেন,এসআই প্রসেনজীৎ দেবনাথ, কনস্টেবল শ্যামলেশ কুমার মন্ডল,কনস্টেবল মোঃ সাকির হোসেন ও কনস্টেবল মোঃ পারভেজ শিকদার এগিয়ে এলে তারাও হামলায় আহত হয় বলে জানা গেছে।
এ সময় পুলিশ সদস্যদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কাউখালী থানা পুলিশ আহত নৌ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ ঘটনায় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ আরমান হোসেন বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা,পুলিশ সদস্যদের মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কাউখালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
কাউখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল আসামি মোঃ শান্তকে আটক করে এবং বাকী আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।
কাউখালী থানার ওসি(তদন্ত) এবাদ আলী মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শান্তকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।