News 52 Bangla.
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রী: সাংবাদিককে দিনের আলোয় কুপিয়ে জখম, ১১ মাস পর গুলি করে হত্যা এ কেমন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা? এ প্রশ্ন গোটা সাংবাদিক সমাজের। মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অবস্থান ও ফেসবুকে দেওয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে সোচ্চার গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজ।
এদিকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের মরদেহ
ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার আছর নামাজবাদ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানাগেছে।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যাকাণ্ডে দৃশ্যমান অগ্রগতি না পেলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহন করা হবে। একের পর এক সাংবাদিক হত্যাকান্ড এবং বিচারহীনতা গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। সাংবাদিকদের এখন আর বসে থাকার সুযোগ নেই। সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফকে হত্যা শুধু একজন সাংবাদিকের প্রাণহানি নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর এক ভয়াবহ আঘাত। সাংবাদিকদের বাঁচাতে সরকারকে অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ দেখছি না। তবে হত্যাকান্ডের বিষয়টি আমরা গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছি; যে কোন সময় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে।
সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মাদকবিরোধী ফেসবুক পোস্টকে হত্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। গত বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাটে চাপাতি দিয়ে সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার প্রায় ১১ মাস পর, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ রাতে তাঁকে গুলি করে হত্যার খবর সামনে এসেছে। আগের হামলার পর কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, হামলার পেছনের ব্যক্তিরা শনাক্ত হয়েছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি কী এসব প্রশ্নের জবাব এখন জরুরি।
একই সাংবাদিকের ওপর বারবার হামলা, শেষ পর্যন্ত প্রাণহানি এ ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্টদের এড়ানোর সুযোগ নেই। প্রতিটি সাংবাদিক হত্যার পর তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হবে, অথচ অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তের নামে কালক্ষেপণ নয়, আমরা চাই দৃশ্যমান ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ।
দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরের হামলার ঘটনা পুনঃপর্যালোচনা করে ওই হামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন। নিহত সাংবাদিকের পরিবার, সহকর্মী ও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে নিয়মিত অবহিত করতে হবে এবং দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং ঝুঁকিতে থাকা সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর অগ্রগতি না দেখা গেলে বিচার দাবিতে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি সারাদেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কলম বিরতি, মানববন্ধন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান, লংমার্চ সহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Leave a Reply