শাহাজাদী সুলতানা, শরীয়তপুর:প্রতিনিধিঃ
শিক্ষার্থীদের ভেষজ উদ্ভিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসার গুণাগুণ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর এলাকায় অবস্থিত ফৌজউদ্দিন মাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টিনন্দন ‘ঔষধি ভেষজ বাগান’ গড়ে তোলা হয়েছে।
বর্তমান আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক নিরাময় সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান দানের লক্ষ্যে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন মাসুদ -এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও নিজস্ব অর্থায়নে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ঔষধি বাগানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠের এক কোণে নান্দনিকভাবে সাজানো এই বাগানে রোপণ করা হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রজাতির দুর্লভ ও প্রয়োজনীয় ঔষধি গাছ।
যার মধ্যে রয়েছে এলোভেরা (ঘৃতকুমারী), তুলসী, থানকুনি, পুদিনা, পাথরকুচি, বাসক, অর্জুন, নিম, কালমেঘ, শিউলি, নিশিন্দা, শতমূলী ও অশ্বগন্ধাসহ নানা জাতের ভেষজ উদ্ভিদ। বইয়ের পড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন সরাসরি ঔষধি গাছ চিনতে পারে এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে জানতে পারে, সেজন্য প্রতিটি গাছের সামনে পরিচিতি ফলক বা প্ল্যাকার্ড দেওয়া হয়েছে। সাধারণ রোগব্যাধিতে রাসায়নিক ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভেষজ উদ্ভিদের মাধ্যমে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক জানান, বর্তমান যুগের ছেলেমেয়েরা প্রতিনিয়ত কৃত্রিম ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, অথচ আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে নানাগুণে গুণান্বিত ভেষজ উদ্ভিদ। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এই ভেষজ বাগান শিক্ষার্থীদের যেমন সৃজনশীল হতে সাহায্য করছে, তেমনি তাদের সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে একটি চমৎকার সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। তিনি নিজের অবসরের সময় এবং নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করে গাছগুলো সংগ্রহ ও পরিচর্যা করে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে শুধু কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই নয়, বরং বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মাঝেও ভেষজ চিকিৎসার গুরুত্ব ও সচেতনতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রাকৃতিক উপায়ে সুস্থ থাকার মানসিকতা তৈরিতে এই বাগান অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এটি এখন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জীবন্ত বিজ্ঞান গবেষণাগার ও পরিবেশ শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এলাকার স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ফৌজউদ্দিন মাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই অনন্য উদ্যোগটি অত্যন্ত অনুকরণীয়। দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি এমন ভেষজ বাগান গড়ে তোলা যায়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিজস্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।