কাপ্তাই প্রতিনিধি।

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম – কাপ্তাই সড়ক এলাকায় টানা অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসে একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের উপর পড়ে। এবং একই সঙ্গে পাহাড়ের মাটি ধ্বসে সড়কের উপর জমা হওয়ায় মঙ্গলবার ( ৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০ টা হতে সড়কে সকল প্রকার যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার এবং প্রত্যক্ষদর্শী কাপ্তাই বিউবো স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল কবির করিমী জানান সোমবার রাত হতে টানা বৃষ্টির ফলে সড়কে গাছ এবং পাহাড় ধ্বসে পড়ে। ফলে উভয়ই দিক হতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গাছ অপসারণ ও সড়ক পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু করে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ, পিডিবি, এবং স্থানীয়রা মিলে সড়ক হতে গাছ এবং মাটি অপসারণ করে যান চলাচলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।
কাপ্তাই নতুন বাজার ঢাকাইয়া কলোনি প্রায় ৫শ’পরিবার পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রায়হানুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, কাপ্তাই সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন, কাপ্তাই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ্যভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে আসার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ১৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে আসবেন তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে খাওয়াসহ সকল ধরনের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান। এ দিকে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধস ও বসতভিটার ক্ষতি সাধনের খবর পাওয়া যায়।