কাউখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ হরিণধারা-গোপালপুর সড়ক

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত হরিণধারা খেয়াঘাট সংলগ্ন সড়কটি এখন চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খেয়াঘাটের খালের পাড়ের রাস্তা থেকে পশ্চিম গোপালপুর সংযোগ সরদার বাড়ি ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি খালের ভাঙনে ক্রমেই নদী-নালায় পরিণত হতে চলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষাবেক্ষণ না থাকায় রাস্তাটির বড় অংশ ভেঙে খালের পানির সঙ্গে মিশে গেছে। সংকীর্ণ হয়ে আসা এই জরাজীর্ণ সড়কের জায়গায় জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। জরুরি ভিত্তিতে খালের পাড়ে টেকসই পাইলিং ও রাস্তা মেরামত করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে সড়কটি পুরোপুরি খালের পেটে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই রাস্তাটি আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম। এর ওপর নির্ভর করে পশ্চিম আমড়াজুড়ি, রোঙ্গাকাঠি, গন্তব, হরিণধারা, গোপালপুর, হোগলা ও বেতকাসহ অন্তত ৮টি গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। প্রতিদিন  সাধারণ পথচারী, বিভিন্ন পেশাজীবি এবং স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন। মূলত এই পথ ধরেই হরিণধারা খেয়াঘাটে পৌঁছে নদী পার হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাউখালী উপজেলা সদরে যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আলাউদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য অনিল চন্দ্র বলেন, এই রাস্তাটা আমাদের পুরো এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব সহজেই আমরা এ পথ দিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারি। কিন্তু রাস্তাটি যেভাবে খালের গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে, তাতে এখনই যদি মেরামত ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু না করা হয়, তবে কয়েকদিনের মধ্যে ৮টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
যোগাযোগের এই করুণ দশা এবং জনগণের দুর্ভোগের বিষয়ে আমড়াজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, আমি সবেমাত্র এই ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। আমড়াজুড়ী ইউনিয়নের জরাজীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন রাস্তাঘাটের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছি। হরিণধারা-গোপালপুর সড়কটির সমস্যা খতিয়ে দেখে দ্রুত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *