শাহাজাদী সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
জাজিরা (শরীয়তপুর), সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নে যুব সমাজের উদ্যোগে এক বিশাল মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ মে)-২০২৬ বিকেলে বড়কান্দি ইউনিয়নের বুড়ারবাজার এলাকায় স্থানীয় যুব সমাজের আয়োজনে এই কর্মসূচির সূচনা হয়।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করেন।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা জোরালো কণ্ঠে স্লোগান দেন— “যুবদল যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে”, “বড়কান্দির আস্তানায় মাদক কারবারি থাকবে না”, “মাদককে না বলুন, সুন্দর সমাজ গড়ুন”, “তরুণদের বাঁচাতে মাদকমুক্ত সমাজ চাই” ইত্যাদি।
র্যালিটি বুড়ো বাজার থেকে শুরু হয়ে বড়কান্দি ইউনিয়নের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে দুর্গার হাট বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যুবক, ছাত্র, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বড়কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান খলিফা এবং বিএনপি নেতা রুবেল সর্দার। বক্তারা বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না, বরং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান খলিফা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মাদক আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষার স্বার্থে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যুব সমাজের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী।”বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমিও ঘোষণা করলাম মাদক কারবারি মাদক সেবন আদান প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ এই মাদকের সাথে জড়িত যদি কোন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করে থাকেন যদি কারো জানা থাকে এবং আমাদেরকে জানাবেন আমরা এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করব। মাদক আদান প্রদানকারী এবং বিক্রয়ের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না সে যদি আমার ভাই হয় ভাতিজা হয় তাকেও না। মাদক কারবারি সমাজের শত্রু এবং সমাজের একটি ব্যাধি যদি মাদক সেবা মাদকের সাথে জড়িত এমন কোন লোকের তথ্য আপনারা কেউ যেনে থাকেন তাহলে আপনাদেরকে জানাবেন আমরা তাকে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করবো।
বিএনপি নেতা রুবেল সর্দার বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকাসক্তির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।”বাংলাদেশ যেমন মাদকের বয়ান আক্রমণে ছেয়ে গেছে তেমনি আমাদের বড়কান্দিটা ও ছেয়ে গেছে মাদকে জর্জরিত। এ মাদকাসক্ত লোকের জন্য সমাজে চুরি,ছিনতাই রাহাজারি বেড়ে গেছে এবং সমাজের পারিবারিক অবক্ষয় হয়েছে। এজন্য আমরা মাদকের বয়াল আক্রমণ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে চাচ্ছি, সেজন্য বড় কান্দি আলোর পথে সংগঠনকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে জাতীয়বাদী দলের পক্ষ থেকে মুরুব্বীদের পক্ষ থেকে এবং আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যারা মাদক কারবারের ডিলার আছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা ওসি মহোদয়ের সাথে কথা বলবো এবং আপনারা যদি কেউ মাদকের সাথে জড়িত কোন ব্যক্তির সন্ধান পেয়ে থাকেন আমাদেরকে বলবেন আমরা তাকে থানায় সোপর্দ করব।
আরো বক্তব্য রাখেন,
মোস্তফা মহসিন মৃধা, সাধারণ সম্পাদক (জাসাস) জাজিরা উপজেলা শাখা।তিনি বলেন,মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না কেউ যদি মাদকের সাথে জড়িত এমন লোকের সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে আমাদেরকে জানাবেন আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিব থানায় তাকে সোপর্দ করবো।
আয়োজকরা জানান, মাদকবিরোধী এই আন্দোলন শুধু একটি দিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রচারণা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচি শেষে উপস্থিত সকলেই মাদকমুক্ত বড়কান্দি ইউনিয়ন এবং মাদকমুক্ত জাজিরা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। স্থানীয়দের মতে, যুব সমাজের এই উদ্যোগ এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।